দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জেরে কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির সবাই গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত আশরাফুলের মা নিগার সুলতানা ছেলের হত্যার বিচার নয়, সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তার আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মা আর্তনাদ করে বলছিলেন, 'বিচার লাগবো না, আমার বাবা লাগবোরে, আমার বুকের হাহাকারটা নিভাইয়া দে, আমারে একটু মা কইয়া ডাইকলেই অইবোরে, আমি খরাত (ভিক্ষা) কইরা কইরা তোমাদের টাকা দিমুরে বাবার লাইগা, আমারে বাবা আইনাদেরে, আমার একটা বাবারে, ওদের ১০ টা আছেরে, আমার আর কেউ নাইরে'।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব, নিহতের বাবা আজিজুল হক, বোন অন্তরা আক্তার ও মামা কে এম সালেহ আহমেদ।
কে এম সালেহ আহমেদ বলেন, এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দ্রুত সব হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
নিহতের বোন অন্তরা আক্তার অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই এখনও আইনের আওতায় আসেনি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার এক আসামির কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, আশরাফুল ইসলাম রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ জানুয়ারি নাহিদ ব্যাপারী ও শাহিন বেপারীসহ কয়েকজন তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
১৬ জানুয়ারি আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ শাহিন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর গ্রিন রোডের নিউ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশরাফুল মারা যান।
এ ঘটনায় গত ২৩ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে শাকিল ও সোহাগ বেপারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১।
জে আই