দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আড়ালে জুয়া খেলার আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার দলপা এলাকায় এমন একটি আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোরে দলপা এলাকায় প্রকাশ্যে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক জুয়াড়ি অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লড়াইকে ঘিরে একাধিক ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এদিকে একই দিন দুপুরে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মাদক, জুয়া ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, কেন্দুয়া-আটপাড়ায় মাদক, জুয়া ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর ও আপোশহীন। অপরাধীর পরিচয় যেই হোক না কেন, আইন ও নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে আমরা সবাই একসাথে।
এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়া ও আশপাশের এলাকায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আড়ালে জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। কয়েক মাস আগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে লড়াইয়ের জন্য আনা কয়েকটি ষাঁড় আটক করে নিলামে বিক্রি করলেও এ ধরনের আয়োজন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তাদের দাবি। প্রভাবশালী একটি চক্র নিয়মিতভাবে এসব আয়োজন করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্রিক যোগসাজশের কারণেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু ভ্রাম্যমাণ অভিযান নয়, শীর্ষ পর্যায়ের কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরে কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) মিহির রঞ্জন দেব বলেন, দলপা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ষাঁড়ের লড়াই সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই