দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের কুড়ালের আঘাতে শ্রী অমিতাভ চন্দ্র সুজন (৪০) নামে এক আইনজীবীর সহকারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুজন ওই এলাকার সূর্য নিরঞ্জন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মহুরী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুজন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি ও মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তবে পথে পলাশবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে তিনি মারা যান।
সুজনের পরিবার দাবি করেছে, তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
তবে সুজনের স্ত্রী ও ভাই সুধান চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, জমি নিয়ে ৩–৪ বছর ধরে স্থানীয় নরেশ চন্দ্রের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। সম্প্রতি নরেশ তাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, পূর্ব বিরোধের জের ধরে নরেশ পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে কুড়াল দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করেছে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান জানান, স্থানীয়দের বরাত অনুযায়ী দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে পিছন দিক থেকে সুজনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মানুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং একটি কুড়াল উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরএ