দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মামলা, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এই দুই আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের হিসাবে চার আসনে মোট ভোটার ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ জন, নারী ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন। জেলায় ৫১৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ২ হাজার ৮৯০টি স্থায়ী ও ২৪৬টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১৩৬টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।
পটুয়াখালী-১ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। এখানে ১৬৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৭২টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। তুলনামূলকভাবে এই আসনে পরিবেশ কিছুটা শান্ত থাকলেও নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালী-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। বাউফল উপজেলাকে ঘিরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে অভিযোগ, হামলা-মামলা, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় নির্বাচনী পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশই এখানে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ জন। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলাকে ঘিরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও বিএনপি প্রার্থী সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের মধ্যে কঠিন লড়াই চলছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠায় প্রায় সব ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হচ্ছে।
পটুয়াখালী-৪ আসনে ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত এই আসনে ১১১টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার কারণে প্রশাসনের জন্য এটি বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কাজ করবেন।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা ও নজরদারিতে রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা। ভোটের দিন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জেলা জুড়ে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা রয়েছে।
এমএস/