দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ, যা মোট কেন্দ্রের ৫৬ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝুঁকি মূল্যায়নে দেখা গেছে, পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। গাইবান্ধা-৩ আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১০টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে ফুলছড়ি উপজেলায়। এখানে ৪৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টিই ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনের ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ৩৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ছাড়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ (এর মধ্যে ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ) এবং গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ (এর মধ্যে ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস, বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব এলাকায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য ও সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাইবান্ধা জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় জেলায় মোতায়েন করা হবে প্রায় ১ হাজার ১০০ সেনাসদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে থাকবে ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য।
প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে র্যাব টিমসহ মোট ১৪টি র্যাব টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রাখা হবে বিজিবি সদস্যদেরও। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে জরুরি সেবা ও দ্রুত ফোর্স পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দুইজন করে পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসারসহ মোট ১০ জন আনসার সদস্য এবং ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার মোতায়েন থাকবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ তত বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এসব ভোটার জেলার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে ভোট দেবেন।
জে আই