দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে ৩৭ বছরের পুরোনো বেইলি সেতু দিয়েই প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন ও হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে নির্মিত প্রায় ৩৯৪ ফুট দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রস্থের এই বেইলি সেতুটি বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ভারী যানবাহনসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করে। অতিরিক্ত চাপের কারণে স্টিলের পাটাতন ফেটে যাওয়া, নাট-বল্টু ঢিলে হয়ে পড়া এবং বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। সাময়িক মেরামত করে সেতুটি সচল রাখা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সওজ ২০১৬ সালে সেতুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেতু ভেঙে পড়লে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা-বরিশাল রুটের ট্রাকচালক মো. রুস্তম আলী বলেন, প্রতিবারই লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বছরের পর বছর কাগজেই সীমাবদ্ধ।
যাত্রীবাহী বাসচালক আব্দুর রহমান বলেন, গাড়ি উঠলেই সেতু কাঁপতে থাকে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয়। জোড়াতালির পেছনে টাকা ব্যয় না করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা নাছির উদ্দীন বলেন, ভারী যানবাহন চলার সময় সেতুতে বিকট শব্দ হয় এবং পুরো সেতু দুলতে থাকে। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক দশকে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন সেতুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তবে ২০২৬ সালে নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়ায় কিছু অগ্রগতির কথা জানিয়েছে সওজ। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, "বাসন্ডা বেইলি সেতুর পরিবর্তে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।"
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে জনমনে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক মানববন্ধন করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক সংস্কারের মাধ্যমে সচল রাখা বাসন্ডা বেইলি সেতুর স্থলে দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি এখন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।
যে আই