দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্লান্তি দূর করে দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে অনেকেই এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থী বা দীর্ঘ কর্মঘণ্টায় কাজ করা তরুণদের মধ্যে এসব পানীয়ের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নেফ্রোলজিস্ট ডা. হর্ষবর্ধন।
বিশেষজ্ঞের মতে, ঘন ঘন এনার্জি ড্রিংক পান করলে ধীরে ধীরে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এসব পানীয়তে সাধারণত উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, চিনি, টরিন, গুয়ারানা, জিনসেং এবং বি-ভিটামিন থাকে। এর মধ্যে পরিমিত পরিমাণে টরিন গ্রহণ তুলনামূলক নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান রক্তচাপ বাড়াতে, শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসক ডা. হর্ষবর্ধন বলেন, ‘১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। তাই এ বয়সী তরুণদের ঝুঁকিও বেশি। এছাড়া আগে থেকেই কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর, হৃদ্রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সেবনকারীদের এনার্জি ড্রিংক পান করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশু ও গর্ভবতী নারীদের এনার্জি ড্রিংক পান করা উচিত নয়। একইভাবে কঠোর ব্যায়ামের পর শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এ ধরনের পানীয় এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, কারণ এতে পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যেতে পারে।’
বিশেষজ্ঞের মতে, অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক পান করলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—নিয়মিত মাথাব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রস্রাব কম হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, পেশিতে টান, বমিভাব এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি। এসব লক্ষণ পানিশূন্যতারও ইঙ্গিত হতে পারে।
তিনি জানান, এক দিনে অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক পান করা বা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত বেশি পরিমাণে পান করলে তীব্র কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর প্রধান কারণ পানিশূন্যতা এবং কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া।
তবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা মাঝে মধ্যে পরিমিত পরিমাণে এনার্জি ড্রিংক পান করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন ডা. হর্ষবর্ধন। যদিও এ ধরনের পানীয় কখনোই পানির বিকল্প নয়। কিডনি সুস্থ রাখতে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া সব ধরনের উৎস মিলিয়ে দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ ৪০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
সবশেষে তিনি বলেন, নিয়মিত ক্লান্তি অনুভব করলে এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত পানি পানকে গুরুত্ব দিতে হবে। এরপরও ক্লান্তি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এর পেছনে অজানা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে।
/অ