দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রতারণা চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আল আমিন (২৭)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার নারিকেলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। “বাংলাদেশ আমার অহংকার”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি ও অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনলাইন ও অফলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নন্দলাল পেশায় একজন সিএনজি চালক। যাতায়াতের সময় প্রতারক আল আমিন নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দেয়। তার কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী নিজের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে সহযোগিতা চান। পরে আল আমিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নিয়ে জমি উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগী যোগাযোগের চেষ্টা করলে আসামির মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে আল আমিন নামে কোনো র্যাব সদস্য কর্মরত নেই। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নন্দলাল বাদী হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা সদর থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সদর থানায় মামলা নং-১১ হিসেবে রুজু হয়।
মামলার প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। নিজের মোবাইল ফোনে কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ বিভিন্ন পদবির নামে নম্বর সেভ করে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম প্রদর্শন করে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করতেন এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতেন।
গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর একটি বুট জোড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাগ, হ্যান্ডকাফ, সেনাবাহিনীর আইডি কার্ড, অফিসিয়াল সিল, মোবাইল পাস, নেমপ্লেট, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, বিভিন্ন চাকরিসংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র এবং একাধিক সিমকার্ডসহ একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা র্যাবের কমান্ডার সিনিয়র এএসপি তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।