দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষার খাতায় থাকা হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভা বোর্ডের সামনে দেওয়া হাতের লেখার অমিল পাওয়ায় এক নারী প্রার্থীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রার্থীর নাম আসমা খাতুন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এনডিসি সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভাইভা পরীক্ষাকালে প্রার্থীর ওয়েমার শিটে থাকা হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভা বোর্ডে লিখিত হাতের লেখার পার্থক্য লক্ষ্য করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় ভাইভা বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত প্রার্থীকে পুলিশি হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, মেয়েটি রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিল। আমাদের থানায় একটি অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে আমরা অভিযোগ দিই।
তিনি আরও বলেন, ভাইভাতে সে ভালো করতে পারেনি। তাই সন্দেহ করা হচ্ছে, হয়তো লিখিত পরীক্ষা অন্য কেউ দিয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খুবই অমানবিকভাবে দেখা হচ্ছে। মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের, তার স্বামী পঙ্গু হতে পারে, দুটি সন্তান রয়েছে। ভাইভা শেষ করে সে বাড়িতে চলে গিয়েছিল। পরে আবার বাসা থেকে ডেকে এনে তাকে আটকে রাখা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে, অন্যদিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ-ওসি মাসুদুর রহমান জানান, প্রাথমিকে নিয়োগের পরীক্ষায় প্রতারণা সংক্রান্ত নিয়মিত মামলায় জেলা প্রশাসন কতৃক আসমা খাতুনকে পুলিশে সোপর্দ করলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কে