দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, তাদের ব্যাংক হিসাবে আড়াই হাজার কোটির বেশি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তার।
মামলার এজাহারে বলা হয় মো. মিরাজুল ইসলাম ইফতি ইটিসিএল, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক। তার নামে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ক্রয়সহ স্থাবর সম্পদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ার ও ৯টি গাড়িসহ অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। পাশাপাশি পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকা। এ হিসাবে পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকা।
বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। ফলে তার নামে ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া তার ব্যাংকে ২ হাজার ৬৯১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯ টাকা ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া শামীমা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকা জমার তথ্য রয়েছে, যা তিনি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
এ মামলা দুটি অনুসন্ধান করেন দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
তবে দুদকের এ দুটি মামলার বিষয়ে জানার জন্য মিরাজুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, মিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে এলজিইডি দপ্তরের কোনো কাজ না করেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপরাধে দুদক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে এর আগে তাদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করেছেন। এই নিয়ে মোট ১০টি মামলা হয়েছে।
এবি/