দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ ২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরে এটিম মাঠে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। তবে দুপুরের আগে থেকেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন দলের নেতা-কর্মীরা।
তাদের অনেকের হাতে ধানের শীষ, কারও হাতে তারেক রহমান ও আবারও কারও হাতে জাতীয় পতাকা। বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তারেক রহমান রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছেন তারেক রহমান। রাজশাহী নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। রাজশাহীর জনসভা শেষ করে তারেক রহমান বেলা সাড়ে তিনটায় নওগাঁর পথে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের নওগাঁ আগমনকে ঘিরে অনেকটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নওগাঁর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সমাবেশে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে জনসভায় আসছেন।
সরেজমিনে আজ দুপুর ২টার দিকে সভাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ৬৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪৪ ফুট প্রস্থের সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের মাঝে এলইডি ও দুপাশে রয়েছে ব্যানার। মঞ্চের বাঁ দিকের ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ এবং ডান পাশে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এ সভামঞ্চে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
শহরের এটিম মাঠের পশ্চিমাংশে মঞ্চের পাশে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে দল বেঁধে ঢুকছেন বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। তাদের মুখে ‘তারেক জিয়ার ঘাঁটি, নওগাঁর মাটি’সহ নানা স্লোগান।
সমাবেশে জেলার পোরশা উপজেলা থেকে এসেছেন বিএনপি সমর্থক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, সকাল ১১টার দিকে পোরশার দেউলিয়া এলাকা থেকে রওনা হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন।
এত আগে কেন এসেছেন- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে (তারেক রহমান) সামনাসামনি মনভরে দেখব। তাই মঞ্চের কাছে বসার জন্য চলে এসেছি। আগেভাগে আসায় মঞ্চের কাছে বসার সুযোগটা পেলাম।’
ধামইরহাট উপজেলা থেকে এসেছেন কলেজছাত্র মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এতদিন তারেক রহমানকে টেলিভিশন আর মোবাইলে দেখেছি। আজ তাঁকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হারাতে চায়নি। তাই সমাবেশ সন্ধ্যায় হলেও দুপুরেই চলে এসেছি।’
জনসভাস্থলের চারপাশে সিএসএফ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এর মাধ্যমে জনসভাস্থলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সভায় যোগ দিতে সকাল থেকে নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা আসতে শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে নওগাঁর পত্নীতলা ও নিয়ামতপুরে নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। এরপর এই নির্বাচনী জনসভায় আসছেন। এই কর্মসূচিকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নওগাঁ শহরজুড়ে পোস্টার ও ব্যানারে স্বাগত জানানো হয়েছে তারেক রহমানকে।
এই কর্মসূচি উপলক্ষে নওগাঁ জেলা বিএনিপর সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর করছেন। তার আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এই সমাবেশে নওগাঁ ছয়টি আসন ও জয়পুরহাটের দুটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। জনগণের মাঝে বিএনপির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবেন। ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন। আশা করছি, সমাবেশটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নওগাঁ সফরে আসেন। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম নওগাঁতে আসছেন তিনি। সে হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর পর নওগাঁয় বড় কোনো সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে নওগাঁর পত্নীতলা ও নিয়ামতপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৮ বছর পর দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচনী সমাবেশে তার সন্তান তারেক রহমান নওগাঁয় জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন।
এবি/