দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদারীপুরের ডাসারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার আব্বাস চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে তাকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাকে গুরতর অবস্থায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুর থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা যায়।
একপর্যায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্বাসের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দারের বাড়ি ও তার বংশীয় লোকজনের বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের ১৩টি বসতঘরে লুটপাট এবং ভাঙচুর শেষে ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাঁধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে আগুনে পুড়ে গেছে ১৩টি বসতঘর।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের জানই বাঁচে না। মালামাল সরাবো ক্যামনে। আগুনে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হইয়া গেছে। শুধু আমি এক নই, জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে কিছু আর বাকি নাই। সব পুড়ে শ্যাষ। আমরা কোনো কিছু বোঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।’
ঘটনার পর সন্ধায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম ও ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আবুল আর আব্বাস গ্রুপের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজকের ঘটনার সূত্রপাত। এছাড়াও দুই গ্রুপের মধ্যে জায়গা জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। দু’পক্ষই ক্ষমতার শক্তি প্রদর্শনের ইস্যুও আছে। দুদিন আগে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আজকে সেই সংঘাত বড় আকারে সংঘঠিত হয়। আনোয়ার-আবুল গ্রুপের ১৩টি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএ