দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির পরীক্ষা কার্যক্রম এখন কার্যত একটি সক্রিয় দালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে। প্রকাশ্যেই চলছে ঘুষের লেনদেন। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই পরীক্ষায় ‘পাস’ নিশ্চিত। এসব অনিয়ম চোখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা ব্যাখ্যা দিলেও দালাল চক্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারেননি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রায় এক মাসের অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অধিকাংশ আবেদনকারী প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করছেন। অথচ লাইসেন্স প্রাপ্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপে দালাল চক্রকে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা উৎকোচ দিলেই দেওয়া হচ্ছে পাস। দেখা গেছে পরীক্ষার পাস-ফেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বোর্ডের সদস্য সচিব বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. কাফিউল হাসান মৃধা ও দালাল চক্র। দিন শেষে এই অর্থ দালাল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, প্রতি বুধবার চার সদস্যের বোর্ডের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সদস্য সচিব বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক, জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মনোনীত ডাক্তার।
গত বুধবার মানিকগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের ডাকাডাকি থেকে শুরু করে পাস-ফেল নির্ধারণে দালালদের সরাসরি ভূমিকা। পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকেরা অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় নজরদারি না করে দালালদের ইঙ্গিতেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি বড় মোটরসাইকেল থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে দালালদের নিজস্ব মোটরসাইকেল ভাড়া বাবদ ১০০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
প্রাইভেটকার পরীক্ষায়ও একই চিত্র। প্রশিক্ষণ আর পরীক্ষার পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। দালাল ও কিছু ইন্সট্রাক্টরের সরাসরি দিকনির্দেশনায় চলছে পুরো কার্যক্রম। মাঠের মাঝখানে বসেই দালালদের কথামতো পাস-ফেল নির্ধারণের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও।
পরিচয় গোপন রেখে একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, দালালদের সঙ্গে ‘চুক্তি’ থাকলে পরীক্ষায় না পারলেও পাস নিশ্চিত। এদের একজন বলেন, ‘পারলেও পাস, না পারলেও পাস, সবই টাকার খেলা।’
আরেকজন জানান, প্রথমে ফেল দেখালেও পরে যোগাযোগ করলে ফল বদলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ড্রাইভিং বোর্ডের সভাপতি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রবীন শীষ বলেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কার্যত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সেবা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সড়কে ঝুঁকি বাড়বে এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের আশ্বাস কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই দালাল চক্রের লাগাম টেনে ধরা হবে।
/অ