দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যেন পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলায় দলটির মোট ১৩ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির অজুহাতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের এই গণ-পদত্যাগ এখন জেলার টক অব দ্য টাউন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের তিন প্রভাবশালী নেতা।
তারা হলেন— উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম শরীফ, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এবং পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল হোসেন ।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবারও টুঙ্গিপাড়ায় আরও ৩ জন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৬ জন নেতা দলীয় পদবি বিসর্জন দিলেন।
টুঙ্গিপাড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকালে মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নে ঘটে বড় ধরনের ঘটনা। দক্ষিণ জলিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন।
জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাগর বাগচীর নেতৃত্বে এই পদত্যাগ কর্মসূচি পালিত হয়। পদত্যাগকারী অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমীন শেখ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অভি বাগচী, বিদ্যুৎ বাগচী, সাধারণ সম্পাদক নরেশ গোলদার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শ্যামল বাগচী, সদস্য শিশির বাগচী, হরিচাদ বাকচী, নারায়ন গোলদার, রনজন গাইন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা দাবি করেছেন, তারা স্বেচ্ছায় এবং কারো প্ররোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা থাকলেও ‘সাংগঠনিক জটিলতা’ ও ‘ব্যক্তিগত কারণে’ তারা আর কোনো পদে থাকতে ইচ্ছুক নন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে এই গণ-পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে।
এবি/