দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ নগরীর হেলে পড়া ৫ তলা ভবন পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনসহ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) কর্তৃপক্ষ। এ সময় দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়া এবং হেলা পড়া ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নির্মাণাধীন গ্রিন ডেভেলপমেন্টসহ ৩ ভবন মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর গুলকিবাড়ী বাইলেন কাজী অফিস সংলগ্ন এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ সময় সিটি করপোরেশন সচিব সুমনা আল মজিদ জানান, হেলে পড়া ভবন ও পাশের ১৩ তলা ভবনটিও বিল্ডিং কোড মেনে করা হয়নি। এমনকি নির্মাণাধীন গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনটিও বিল্ডিং কোড না মেনে পাইলিং করার কারণে এই ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়া এবং হেলা পড়া ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ৩ ভবন মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নির্মাণাধীন গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে তৎকালীন পৌরসভা থেকে ১৩ তলা ভবনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন নেওয়ার ৩ বছরের মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজ করার কথা। কিন্তু এখন যে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে এটির অনুমোদনের মেয়াদ প্রায় ৫ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে তাদের কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া, নকশা অনুমোদন কমিটির সদস্য প্রকৌশলী নেসার আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে হাবীবা মীরা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার তাহমিনা আক্তার, প্রকৌশলী মোতালেব প্রমুখ।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পরিদর্শন দলের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব ঘটনায় আমরা নগরবাসী আতঙ্কিত, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। কারণ নগরীর বেশিরভাগ ভবন নির্মাণে মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। সরু রাস্তায় দেওয়া হয়েছে ১৩ তলা থেকে ২০ তলা ভবনের অনুমোদন। এসব নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা দৃশ্যমান। কোনো ঘটনা ঘটলেই বলা হয় এটি পৌরসভার সময়ে অনুমোদন নেওয়া। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে বেক-ডেটে নগরীর বেশিরভাগ ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও প্রচার রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একটি গ্রুপ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকপক্ষের একজন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. কামরুল হাসান মিলন বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছি। তবে ভবন নির্মাণ কাজ দেখভাল করছেন স্বপন নামের একজন। তার সঙ্গে কথা বলুন।’
এরপর ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্বপনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অপরদিকে লন্ডন প্রবাসী রিয়াজুল আমিন অরুন ২০১১ সালে হেলে পড়া ৫ তলা ভবনটি নির্মাণ করে বলে জানান তার ভাই ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম লিটন।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পাশের স্থানে গ্রিন ডেভেলপমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানটি বিল্ডিং কোড না মেনে বহুতল ভবনের পাইলিং কাজ শুরু করে। এ কারণে আমাদের ৫ তলা ভবনটি হেলে পড়েছে। একইসঙ্গে ভবনের দেয়ালেও ফাটলের রেখা পড়েছে। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করলে তারা সরেজমিনে এসে বেজমেন্টের কাজ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। কখন কী হয়, আল্লাহ ভালো জানে।
এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টার দিকে হেলে পড়া ভবনটির দেয়ালে ফাটল রেখা এবং সামনের অংশের মাটিতে দৃশ্যমান ফাটলের সৃষ্টি হয়। এরপরই বিষয়টি টের পেয়ে ভবনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে তারা হেলে পড়া ভবনটির পাশে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাইলিং কাজ বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হেলে পড়া ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এবি/