দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর বনবিভাগ এলাকায় এক নারীকে ধর্ষণ, মারধরের ঘটনায় ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পরে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে পালং মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করছে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কালকিনি থানার ঠেঙ্গামাড়া এলাকার বিল্লাল হাওলাদারের ছেলে মারুফ হাওলাদার (১৮), শরীয়তপুর সদরের পূর্ব কাশাভোগ এলাকার দাদন বেপারীর ছেলে নাফিজ বেপারী (২২), মৃত মোস্তফা খানের ছেলে সাইফুল খান (২২) ও পশ্চিম পরাসর্দ্দি এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সিফাদ ভূঁইয়া (২০)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে শরীয়তপুর বনবিভাগের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বখাটে ও কিশোরগ্যাং নেতা মারুফ খান তার সহযোগীদের নিয়ে বনবিভাগের ভেতরে ওই নারীকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, মারধর এবং নগ্ন ছবি–ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবি করেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। এছাড়া তার ছেলে বন্ধুকেও মারধর করা হয়। তারা ওই নারী ও তার ছেলে বন্ধুর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে বা কাউকে জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ ঘটনাটির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তে সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীকে সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এসডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ ওই নারীকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে চরিত্রহননের চেষ্টা করছে। যেখানে তার ধর্ষণের ঘটনায় বিচার দাবি করার কথা, সেখানে উল্টো তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সমাজে তাকে দোষী হিসেবে তুলে ধরার এসব অপপ্রচার থেকে দূরে রেখে মেয়েটিকে আইনি সহায়তা দিতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন তার পাশে রয়েছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে যেন সঠিক তথ্য উঠে আসে এবং সুষ্ঠু তদন্ত করে নারীটি যথাযথ বিচার পাবে।
ইমরান আল নাজির নামের এক ব্যক্তি বলেন, মেয়েটি তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছে। এখন ঘুরতে গেলেই সেখানে তাদের মারধর করে মোবাইল, টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়া ও ধর্ষণ করা এমন সামাজিক প্রচলন আমরা চাই না। যারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ খানসহ আরও অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে মারুফ খানের চার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।
/অ