দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর হাসখালী, চেলাকাটা ও হেতালবুনে খাল থেকে কাঁকড়া আহরণের সময় ৭ জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। অপহরণের পর রোববার (৭ ডিসেম্বর) বনদস্যু ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), আনারুল ইসলাম (২২), মজিবুল ইসলাম (৩৫), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), নাজমুল হোসেন (৩৪), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও শামীম হোসেন (৩৬)।
ফিরে আসা দুই জেলে শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ফজের আলী জানান, গত ২ ডিসেম্বর কদমতলা বন অফিস থেকে বৈধভাবে পাস নিয়ে তারা কাঁকড়া শিকার করতে সুন্দরবনে যান। রোববার ভোরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীসংলগ্ন হাঁসখালী, চেলাকাটা ও হেতালবুনে খালে কাঁকড়া শিকার করার সময় বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ পরিচয়ে তিনটি নৌকায় থাকা ১০ জন অস্ত্রধারী তাদেরকে ঘিরে ধরে। পরে প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবি করে।
সবুজ হোসেন জানান, অপহরণকৃত জেলেদের বাড়িতে খবর দেওয়ার জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিলেন। এখন চালান তুলতে না পারার পাশাপাশি মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে।
সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানান, বনদস্যু ডন বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করেছে বলে জেলেদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন। বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রল টিমের সদস্যরা সুন্দরবনের মধ্যে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ডন বাহিনী’ ইতোপূর্বে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আলিফ ওরফে অলিম, রবিউল বাহিনীর ন্যায় ডন বাহিনীও আগের মত সুন্দরবনে দস্যুতা শুরু করেছে। বাহিনী প্রধানের বাড়ি খুলনা হলেও তার দলে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাহাজান, একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুল কাজ করছে।
আরএ