দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতি গঠনে শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই এই বার্তা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে চারদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি রিসোর্টের প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে চার জেলার এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
শিশুদের ঝরে পড়া, সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সাংবাদিকতার মাধ্যমে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা যায় সে বিষয়ে ধারণা দিতেই এ আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল কাদির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আল আমিন সরকার। প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি সংগঠন ‘সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর আত্তাকী মাসরুর জামান রনি।
সরকারি-বেসরকারি মোট আটটি প্রতিষ্ঠান এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। চারদিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করছেন।
প্রধান প্রশিক্ষক বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মীর আত্তাকী মাসরুর জামান রনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিশু বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও সংবেদনশীল ও নৈতিক হতে হবে। একটি ভুল বা অসতর্ক প্রতিবেদন শিশুর পুরো জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই শিশুদের পরিচয়, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আল আমিন সরকার বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত না হলে টেকসই জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা যদি দায়িত্বশীল হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
সভাপতির বক্তব্যে মো. আব্দুল কাদির বলেন, ‘শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু বিষয়ক প্রতিবেদন আরও মানসম্মত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিআইআরপিবি’র ড. জুবায়ের আলম, সিনারগোজের সাজিয়া আফরিন, বাগেরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক বাবুল সরদার, সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক ও সমষ্টির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক এনায়েতুর রহমান, বরগুনার সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এবং সাতক্ষীরার সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না। তারা প্রত্যেকেই শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতায় নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা ও শিশু সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বরগুনার সাংবাদিক মুশফিক আরিফ বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ আমাদের শিশু বিষয়ক সংবাদ আরও দায়িত্বশীলভাবে লেখার সাহস ও দিক নির্দেশনা দিচ্ছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমষ্টির জাহিদুল আলম খান। প্রশিক্ষণের পরবর্তী দিনগুলোতে শিশু আইন, শিশু অধিকার, নৈতিক সাংবাদিকতা ও ফিল্ড রিপোর্টিং বিষয়ে সেশন পরিচালিত হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, শিশুর চোখ দিয়েই দেখতে হবে আগামীর বাংলাদেশ। আর সেই দেখার দায়িত্ব যাদের কাঁধে সাংবাদিকদের। সাতক্ষীরায় শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কেবল দক্ষতা বাড়ানোর আয়োজন নয়, এটি শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরার অঙ্গীকার। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ শিশু, শক্তিশালী জাতি।
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা কেবল একটি বিট নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে শিশুদের ঝুঁকি, সম্ভাবনা ও অধিকার তুলে ধরতে পারলে সেটিই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।’
বাগেরহাটের সাংবাদিক বাবুল সরদার বলেন, ‘শিশুদের ঝরেপড়া, সহিংসতা বা পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধানী ও মানবিক দৃষ্টিতে তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, সচেতনতামূলক গল্প ও ইতিবাচক উদাহরণ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখতে পারেন।’
সাতক্ষীরার সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, ‘শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ ইস্যু নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও জাতির ভিত গঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দায়িত্বশীল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শিশুদের কথা তুলে ধরতে পারলে গণমাধ্যম সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে।’
এবি/