দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শীতের শুরুতেই দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের কম্বল পল্লীর কারিগররা। গার্মেন্টস থেকে আনা ঝুট কাপড় দিয়ে বাহারি রকমের কম্বল তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। প্রতিটি শীতই যেন তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন বার্তা। মানে ভালো আর দামে কম হওয়ায় এখানকার কম্বলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।
মূলত বছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কাজিপুরের কম্বল গ্রামগুলোতে কম্বল ও শিশুদের শীতবস্ত্র তৈরি ও বেচাকেনা হয়। এখানে পাওয়া যায় ১০০ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্যের কম্বলও। যা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মৌসুমেই এখানে বিক্রি হয় ৩০০ কোটি টাকার কম্বল। স্বল্প সুদে ঋণসহ ব্যাংকের শাখা স্থাপন করলে এই শিল্পের আরও উন্নয়ন হবে দাবি তাদের। একইরকম কথা বলছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্টও।
যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড় বাজার এখন বাংলাদেশের কম্বল শিল্প নামে পরিচিত। পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত টুকরো কাপড় দিয়ে এখানে তৈরি হচ্ছে হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের শীত নিবারণের কম্বল। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা কম্বল তৈরির কাজটি এ অঞ্চলে এখন শিল্পের খ্যাতি লাভ করেছে। আর এসব কম্বল কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ ছাড়াও সারাদেশের হতদরিদ্র মানুষের শীত নিবারণের অন্যতম বস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কম্বল তৈরির কারিগররা জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে তারা এখানে কাজ করে আসছেন। প্রথমে গার্মেন্টসের ঝুট দিয়ে কাজ করতেন তারা। প্রতিদিন তারা ১৪০০ টাকার মতো আয় করেন। বছরের ৬মাস এই কাজ করেন এবং বাকি ৬মাস অন্য কাজ করেন। ফলে সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। তারা বলেন, এবছরও শীতের আগমনীতে সরগরম হয়ে উঠেছে কাজিপুরের কম্বল পল্লির গ্রামগুলো। জেলার কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড়, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, ঢেকুরিয়া ও বেলতৈল সহ আশপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি গ্রামের প্রতিটি ঘরেই চলছে সেলাইয়ের কাজ। এতে স্বাবলম্বী হচ্ছে গ্রামীণ নারীরা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে বেকারদের।
স্থানীয় কম্বল ব্যবসায়ীরা বলেন, ছোট্ট পরিসরে শুরু হওয়ার পর দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়ায় প্রসার ঘটতে থাকে এই কম্বল শিল্পের। প্রতি শীত মৌসুমে এই এলাকাগুলো থেকে সারাদেশে প্রায় ৩শ কোটি টাকার কম্বল বিক্রি করা হয়। অথচ ঋণ ও ব্যাংকিং সুবিধা না থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি। পাইকারদের কাছে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনেও সারাদেশেই বিক্রি হচ্ছে এখানকার কম্বল। সবারই দাবি এলাকায় বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন ও ঋণ সুবিধা চালু করা।
এই কম্বল শিল্প নিয়ে সিরাজগঞ্জের নাগরিক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা বলেন, এখানে খুব সস্তা থেকে দামি কম্বল পর্যন্ত তৈরি হয়। এতে এগিয়ে যাচ্ছে এই এলাকার সাধারণ মানুষও। সম্ভাবনাময় এই শিল্পের ফ্যাক্টরি গুলো ইন্ডাস্ট্রি হয়ে যাক এমনটা প্রত্যাশা করি।
গল্পটা গার্মেন্সের বাতিল ঝুট কাপড় থেকে শুরু হলেও এখন কম্বলের কাপড় পর্যন্ত এখানে তৈরি হচ্ছে জানিয়ে সেখানকার কম্বল ব্যবসায়ী বনিক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, এখন ইম্পোর্টের কম্বলও আমরা সংগ্রহ করি। আমাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে কম দামে কম্বলসহ বিভিন্ন পোশাক তৈরি করি। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে দরকার স্বল্প সুদের ঋণ বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যাব এবং আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ব্যবসায়ীদের সকল সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, এই শিল্পকে বৃহৎ আকারে নিয়ে যাওয়া হবে। যেকোনভাবে এই কম্বল পল্লীকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, এই এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্বলপল্লী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। কাজিপুরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা এই শিল্পটির প্রসারের জন্য নিরাপত্তা, স্বল্প সুদে ঋণ ও ব্যাংক স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের নিরাপত্তা নয়, ওই এলাকায় যেন কোনপ্রকার চাঁদাবাজি ও হয়রানি না হয় এজন্য রাজনৈতিক নিরাপত্তাও দিতে হবে।
এবি/