দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে মাসব্যাপী শীতবস্ত্র ও শিল্পপণ্যের মেলা শুরু হয়েছে। এদিকে পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকা সত্ত্বেও আবাসিক এলাকায় মেলা বসানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানে না পুলিশ-প্রশাসন।
জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের কাছে মেলার অনুমতির জন্য আবেদন করে রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি না পেলেও মঙ্গলবার বিকেলে শহরের হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, মেলা শুরু হওয়ার ১৫ দিন আগে থেকে মেলার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ফলে স্কুলের পুরো মাঠ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলায় বন্ধ হয়ে যায় প্রধান গেট। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিকল্প গেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে মাঠে খেলাধুলাও। এদিকে চলমান বার্ষিক পরীক্ষার সময় বাড়তি শব্দ ও ভিড়ের কারণে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন স্কুল মাঠে মেলা বসানো ঠিক হয়নি। এতে বাচ্চাদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। রাতের বেলা সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজলে এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত হবে।
হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাজমুল হাসান বলেন, মাঠ স্কুলের হলেও কোনো ভাড়া নেওয়া হয়নি। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুরোধে মৌখিকভাবে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি।
হাট-নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের পরীক্ষায় তেমন সমস্যা হয়নি, তবে অবকাঠামো নির্মাণের সময় কিছু অসুবিধা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির স্বত্বাধিকারী রহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি। আগামী ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষার পর মেলা পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাট-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জান্নাত আরা তিথি বলেন, স্কুল মাঠে মেলা চালানোর জন্য প্রধান শিক্ষক দিতে পারেন না। প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে আমাকে কোনো অবগত করেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, শিল্প এবং বাণিজ্যিক মেলার সঙ্গে জেলা পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এই মেলায় জেলা পুলিশ অথবা পুলিশ নারী কল্যাণ সংঘের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কতিপয় মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মেলা সংক্রান্ত একটি আবেদন পাওয়া গেছে। অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
/অ