দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে জেলা বিসিক কার্যালয়ের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় উৎসবের আমেজ থাকলেও মেলায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও স্টলের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে বিসিক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের স্টল নির্মাণ এবং মেলা প্রাঙ্গণে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে। বৃষ্টিতে স্টল ভিজে উদ্যোক্তাদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
জানা যায়, ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা গত ২৪ এপ্রিল শহরের পৌর উদ্যানে শুরু হয়েছে। মেলা আয়োজনের জন্য সরকার থেকে জেলা বিসিক কার্যালয়কে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকায় স্টল নির্মাণসহ অন্যান্য ব্যয় করার জন্য বলা হয়। তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ উদ্যানে ৭৮টি স্টল নির্মাণ করেছে। এতে প্রতি স্টল বরাদ্দ বাবদ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বিসিকে নিবন্ধনের জন্য আরও ১২০০ টাকা বাড়তি নেওয়া হয়। এতে বিসিক কর্তৃপক্ষ স্টল বাবদ প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে। শুধু তাই নয় স্টলের বাইরেও কয়েকটি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া মেলায় নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২টি স্টল। কিন্তু ওই দুটি স্টলও বিসিক কর্তৃপক্ষ উদ্যোক্তাদের কাছে ৯ হাজার টাকায় বরাদ্দ দিয়েছে।
এছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় মালামালের সুরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের। বেশ কিছু স্টলে পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে, যা সন্ধ্যার পর ক্রেতা আকর্ষণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া মেলা নিয়ে বিসিকের পক্ষ থেকে শহরে তেমন কোনো মাইকিং বা প্রচার চালানো হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। ফলে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা সমাগম ঘটছে না।
মেলায় অংশগ্রহণ করা ফেব্রিক্স গ্যালারি বিডি, মেকরাম হ্যান্ডিক্রাফট বিডি তাজরিন কুটির শিল্প আয়াত ফ্যাশনসহ একাধিক স্টলের উদ্যোক্তারা জানান, মেলা শুরুর পর থেকেই বৃষ্টিতে মালামাল ভিজে গেছে। স্টলে কোনো ত্রিপল দেওয়া হয়নি। যে কারণে পানিতে স্টলে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। এছাড়া স্টলের ভেতর পানি জমে ছিল। পরে নিজ উদ্যোগে স্টলে ত্রিপল ও বালু ফেলা হয়েছে।
উদ্যোক্তা সোনিয়া বলেন, ‘স্টল নিতে ৮ হাজার টাকা এবং নিবন্ধনের জন্য আরও ১২০০ টাকা দিতে হয়েছে। তবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়নি। বৃষ্টিতে স্টলের ভেতর পানি জমে ছিল। ত্রিপল না দেওয়ায় স্টলে পানি পড়তো। বলার পরও কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে নিজেদের টাকায় ত্রিপল, পলিথিন টাঙিয়ে নিয়েছি।’
আরেক উদ্যোক্তা রাকিব আল রনি বলেন, ‘মেলায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে উদ্যোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রতি বছরই মেলায় অংশগ্রহণ করলেও এবারই বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে। ৯ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩-৪ হাজার টাকা স্টল ফি করলে ভালো হত।’
জেলা বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা ওয়াসিম সরকার বলেন, ‘নিবন্ধিত উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার এবং অনিবন্ধিত উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা স্টল বাবদ নেওয়া হয়েছে।’
বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম বলেন, ‘বিসিক মেলা আয়োজনে সরকার যে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, সেটা দিয়ে মেলা শেষ করা সম্ভব না। মেলায় অনেক খরচ। তাই বাড়তি স্টল করা হয়েছে। স্টল প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।’
/অ