দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এক নারীকে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিপন মোল্লাকে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের হোসনাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৮ এর মাদারীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রিপন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের মৃত সোনাই মোল্লার ছেলে।
শনিবার দুপুরে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে শরীয়তপুর শহরের রূপনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমা বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই দ্বীন ইসলাম বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে নামে র্যাব-৮ এর একটি দল।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব প্রথমে একই বাসার ভাড়াটিয়া বিল্লাল হোসেনকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত রিপন মোল্লাকে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রিপনের কাছ থেকে লুট হওয়া এক জোড়া স্বর্ণের বালা, নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে শরীয়তপুরের পালং থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব আরও জানায়, নিহত নাজমা বেগমের তিন বছর আগে স্বামী বাশার কাজীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি ছেলে নিরব কাজীকে নিয়ে শরীয়তপুর শহরের রূপনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। নিরব পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনার দিন সকালে নিরব বিদ্যালয়ে গেলে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘরে প্রবেশ করে নাজমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে রিপন। পরে ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফিরে এসে নিরব খাটের ওপর মায়ের মরদেহ দেখতে পায় এবং চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
র্যাব জানায়, এই ঘটনায় আরও একজন সহযোগী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জে আই