দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে তোলা অন্তত ৫০টি দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে সৈকত এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সদস্য। উচ্ছেদে ব্যবহার করা হয় একটি এক্সকাভেটর।
এর আগে শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নতুন স্থাপনা ১১ অক্টোবর রাতের মধ্যে এবং পুরনো স্থাপনা ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
তিনি জানান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় এসব স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিআইজি) আপেল মাহমুদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বালিয়াড়ি দখল করে বসানো প্রায় ৫০টি দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুপুর ২টার মধ্যে মালিকদের নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরানোর সময় দেওয়া হলেও তারা তা না করায় অভিযান চালানো হয়।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘শনিবার রাতের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা অমান্য করায় রোববার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।’
জানা গেছে, গত এক বছরে কক্সবাজারের নাজিরারটেক, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, সোনারপাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতের বিভিন্ন অংশে শত শত দোকান ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এর মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের বদলির পরই নতুন করে শতাধিক টংঘর বসানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে সরকার কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। এ আইন অনুযায়ী, সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা উন্নয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরসহ একাধিকবার জেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিল।