দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামী একটি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এতে অংশ নেন কুমিল্লা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, নাঙ্গলকোট পৌরসভার আমির হারুন আর রশিদ, মক্রবপুর ইউনিয়ন আমির ডা. বেলাল আহমেদসহ স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
মিছিলে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমির হামজা রাসেলকে একটি দলের ইন্ধনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে কুমিল্লা ডিবির ওসি ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আমির হামজা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন সুবিধাও ভোগ করেছেন। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে নিজেকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং দলটির প্রতীকে প্রচারণা চালান।
তবে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, আমির হামজা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তারা গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, মক্রবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. বেলাল আহমেদ দাবি করেন, “আমির হামজা প্রকৃতপক্ষে একজন শিবিরকর্মী ছিলেন। ছাত্রলীগ জোর করে তাদের কমিটিতে তার নাম দিয়েছে। তিনি কলেজ জীবন থেকেই শিবিরের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।”
নাঙ্গলকোট থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, “ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজনৈতিক বিষয়টি আমার জানা নেই।”
ইতিমধ্যে আমির হামজাকে ঘিরে দুই দলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এফএইচ/