দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ভালো জীবনের আশায় সর্বস্ব হারিয়েছে এক পরিবার। জমি বন্ধক, মোটরসাইকেল বিক্রি ও সুদে টাকা তুলে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন প্রতিবেশী দুই প্রবাস ফেরত যুবকের হাতে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আকামা বা নির্দিষ্ট চাকরি না পেয়ে এখন সৌদি আরবে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিমুল নামে ওই যুবক।
পরিবার জানায়, গত ২৪ মে প্রবাস ফেরত খাইরুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শিমুল। সরকারি স্ট্যাম্পে চুক্তি ছিল ১,৮০০ রিয়াল বেতনে কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। না হলে পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। ভিডিও কলে শিমুল তার অসহায় অবস্থার কথা জানালে বাবা-মা ও স্ত্রী দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়েন।
শিমুলের বাবা জাফর শেখ জানান, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর গ্রাম্য শালিস ও বারবার আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি। বরং অভিযুক্তরা আরও টাকা দাবি করছে। অভাবের কারণে পরিবারটি দুই মাস ধরে শুধু আলুভর্তা দিয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন বলে জানান তিনি।
অবশেষে শিমুলের মা পারভীন বেগম বাদী হয়ে খাইরুল ও শরিফুলকে আসামি করে নড়াইলের মানবপাচার প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী ২২ অক্টোবর প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
এদিকে শিমুলের চাচা-চাচি জানান, মামলা করায় অভিযুক্তরা তাদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। তবে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়েছিল, শিমুল নিজেই কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর পিবিআইয়ের এএসআই মহিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত চলছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এমএস/