দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের নকলার গ্রামের বাড়িতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর (অফিসার) খন্দকার জান্নাতুল নাঈমের (৩৭) মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টায় নকলার লাভা গ্রামে নাঈমের গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পুরো গ্রাম। পরে জানাজা শেষে ‘খন্দকার বাড়ি গণকরস্থান’ এ তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে নাঈমের মরদেহ গ্রামের আসার পর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ময়মনসিংহ বিভাগে উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী (পিএফএম) সহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল নাঈমের পরিবারের সাথে স্বাক্ষাত করেন। এসময় নাঈমকে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। গার্ড অফ অনারে উপস্থিত ছিলেন নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গার্ড অফ অনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাঈম কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। সে এখন রাষ্ট্রের সম্পদ। নাঈমের মৃত্যু পরবর্তী যা যা করার প্রয়োজন তার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে। আমাদের বিভাগ থেকে তার সন্তানদের আজীবন পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। মাননীয় মহাপরিচালক স্যার, আমাদের কল্যান তহবিলকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও তার পরিবারের ভরণ পোষণ রাষ্ট্র নিয়েছে। সে বেঁচে থাকলে তার স্ত্রী যতটুকু পেতো, এখন তার চেয়ে আরও বেশি পাবে।’
এ ব্যাপারে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নাঈম একজন জাতীয় বীর। অন্যের সম্পদ ও জীবন বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে বীরত্ব দেখিয়ে গেছেন। এমন সন্তান নকলা বাসীর জন্য গর্বের। আমরা তার পরিবারের পাশে আছি।

খন্দকার জান্নাতুল নাঈম ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার গৌড়দুয়ার ইউনিয়নের খন্দকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মোল্লার টেক উদয়ন বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি ও ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তিনি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে স্টেশন অফিসার হিসেবে মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং একটি আড়াই বছরের ছেলে সন্তানের জনক। তার পিতা খন্দকার মোজাম্মেল হক ও মাতা দেলোয়ারা বেগম।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতুল নাঈম শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর সাহারা মার্কেটে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন নেভাতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। তার শরীরের ৪২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
কে