দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চিকিৎসার নামে ষষ্ঠ শ্রেণির দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কথিত ‘কবিরাজ’ সাভার আলির বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কবিরাজের চেম্বারে ভাঙচুর চালায় এবং তাকে আটক করে। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই ছাত্রীর অভিভাবক দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে অভিযুক্ত সাভার আলির চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রীর মধ্যে একজনের হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করলে তারা দুজন চিকিৎসার জন্য কথিত কবিরাজ সাভার আলির শরণাপন্ন হন। এই সুযোগে ধূর্ত কবিরাজ চিকিৎসার ছলে প্রথম ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি একই কৌশলে তার সহপাঠী ষষ্ঠ শ্রেণির আরেক ছাত্রীকেও ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী প্রথমে ভয় ও লোকলজ্জার কারণে ঘটনাটি গোপন রাখে।
দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তারা পরিবারকে সব খুলে বলে। খবরটি এলাকায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সঙ্গে সঙ্গে কবিরাজের চেম্বারে ভাঙচুর চালায় এবং ধর্ষক সাভার আলিকে আটক করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল করলে মান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জনরোষ থেকে অভিযুক্ত ধর্ষককে উদ্ধার করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর অভিভাবক অভিযুক্ত ধর্ষক সাভার আলির বিরুদ্ধে দুটি ভিন্ন মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো মান্দা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
/অ