দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিট্কা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এক খন্ডকালীন শিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রেজা সাইফুল ইসলাম। গত ৭ সেপ্টেম্বর দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেন, বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক মেহেদী হাসান ও কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম। এর আগে এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মেহেদী হাসানের কক্ষে নকল পাওয়া গেলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বিদ্যালয়ের তৈরি প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় দ্রুত তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ছাপানো হতো, তাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মেহেদী হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে, আমি এসবের সাথে জড়িত নই।
অন্যদিকে কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সাল থেকে আমি এই বিদ্যালয়ে কর্মরত। এর আগে কখনো এমন অভিযোগ ওঠেনি। আমি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষক মেহেদী হাসান ও কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এডহক কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির জানান, আমরা অভিযোগ তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিগার সুলতানা চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা জানার পরই আমি প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।