দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নড়াইলের লোহাগড়ায় আব্দুল্লাহ মেজবাহ(৮) নামে এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে নারীসহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ অপহৃত শিশু আব্দুল্লাহ মেজবাহ (৮)–কে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত শিশু আব্দুল্লাহ মেজবাহ লোহাগড়া উপজেলার কোটাখোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামের প্রবাসী সালাউদ্দীন মৃধার ছেলে।
রোববার (৩১ আগস্ট) ভোরে লোহাগড়া নিরিবিলি পিকনিক স্পট থেকে তাকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ঘাঘা উত্তরপাড়া গ্রামের শহিদ শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ (৩৬), বাবুল লস্করের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩৫), ভ্যানচালক হানিফের ছেলে জান্নাতুল (২০), এবং বাবুল লস্করের ছেলে সাকিব (১৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উজ্জ্বল শেখ পরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের শিশু আব্দুল্লাহ মেজবাহকে অপহরণের উদ্যোগ নেন। এ কাজে ভ্যানচালক জান্নাতুলকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫০০ টাকা দেন এবং কাজ শেষে বাকি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। একইভাবে রোজিনা বেগম ও তার ছেলে সাকিবকে মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে তাদের ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যার ফলে তারা সম্মত হন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু আব্দুল্লাহ বাড়ির পাশের উজ্জ্বল শেখের দোকানে গেলে, পরিকল্পনা অনুযায়ী উজ্জ্বল তাকে দুটি ‘হিস্টাসিন’ ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরে জান্নাতুল, রোজিনা ও সাকিবের সহায়তায় তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা করে। এরপর শিশুটিকে লোহাগড়া নিরিবিলি পিকনিক স্পটের একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখা হয়, যেখানে রোজিনা বেগম তার পাহারাদারের দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অপহরণকারী উজ্জ্বল শেখ শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে থানায় গিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন। তবে তাদের কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য হলে পুলিশ সন্দেহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শরিফুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়, উপ-পরিদর্শক তারক বিশ্বাস ও আজিজুর তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা যৌথ অভিযান চালায়। রোববার (৩১ আগস্ট) ভোরে লোহাগড়ার নিরিবিলি পিকনিক স্পট থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, ‘শিশু অপহরণের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমরা তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।