দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম এ জি নাফসি তালুকদারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে দেরিতে ক্লাসে আসার অভিযোগে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষক নাফসি তালুকদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মারধরের সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তারা নাফসি তালুকদারের হুমকি পাচ্ছেন। দৈনিক বাংলা ও নিউজ বাংলা২৪-এর জেলা প্রতিনিধি রাব্বিউল হাসান রমি, নাগরিক টেলিভিশন ও দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান, দৈনিক ভোরের দর্পণের প্রতিনিধি কাজী তানভিরুল ইসলাম রিগ্যানের স্ত্রীসহ একাধিক ব্যক্তি সরাসরি হুমকির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২৬ ও ২৭ আগস্ট কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ঘটনার পর রাব্বিউল হাসান রমি নিজের ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
এ বিষয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তার বা তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার নিতে হবে নাফসি তালুকদারকে।
অপরদিকে, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাউদ আব্দুল্লাহও ফেসবুকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সত্য প্রকাশের দায়েই সাংবাদিকরা এখন ঝুঁকিতে পড়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, ভিডিও ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ, নাফসি তালুকদার সংবাদকর্মীদের হুমকি দিয়ে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করছেন। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাংবাদিক মহল মনে করছে, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও অনিয়ম আড়াল করার জন্যই সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত নাফসি তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার আগে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং এখনও সেই প্রভাব খাটিয়ে চলেছেন।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান জানান, ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের ব্যাপারে কারণ দর্শানোর জবাব পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডাক্তার-নার্স, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এসিল্যান্ডের সঙ্গেও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/অ