দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়া শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই নেমে আসে দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতা এখন যেন শহরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। গেল ৪৮ ঘণ্টায় মাত্র ১৪০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও দোকানপাট—কিছুই রেহাই পায়নি। পৌর এলাকার সেউজগাড়ি, জহুরুলনগর, বাদুড়তলা, চকসূত্রাপুর, খান্দার, ফুলতলা, সাতমাথা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
বিশেষ করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসজুড়ে হাঁটুপানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে পায়ে নোংরা পানি ভিজিয়ে। কলেজের খেলার মাঠ, প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ ও একাডেমিক ভবন সবখানেই পানি। পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে ২০০ মিটার দূরত্বের জন্য রিকশা চালকেরা নিচ্ছেন ২০ টাকা, তাও আবার পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে অনেকেই হেঁটেই পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কলেজের নিচু অবস্থানের কারণে আশপাশের চারটি ওয়ার্ডের পানি ঢুকে পড়ে ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘ দুই দশকেও বাস্তবায়িত হয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। তবে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে এবার নড়েচড়ে বসেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বগুড়ার উপ-পরিচালক মাসুম আলী বেগ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার ড্রেনের ১০০টি আউটফল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরও দেড়শো কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, যা পৌরসভার উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শহরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয় প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কার্যকর পদক্ষেপ। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনেই বগুড়াবাসী দেখতে চান টেকসই পরিবর্তন।
এফএইচ/