দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদারীপুরে কুমার নদ থেকে রাতের আধারে বালু উত্তোলনের সময় ধাওয়া করে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। শুক্রবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদীর রায়েরকান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এসময় ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে পালিয়ে যায় উত্তোলনকারীরা। এ ঘটনায় অংশ নেওয়াদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা পরিচয়দাতা ওবায়দুল ফরাজির বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার নাঈমুল ইসলাম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী শিরখাড়া ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা শুরু করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা পরিচয়দাতা ওবায়দুল ফরাজিসহ কয়েকজন। এরপর থেকেই প্রতি রাতে কুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল চক্রটি। একইভাবে শুক্রবার রাতেও অবৈধ ড্রেজার মেশিন নিয়ে রায়েরকান্দী শ্রীনদী এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য আসেন তারা। পরে টের পেয়ে স্থানীয় জনগণ তাদের ধাওয়া করে। এসময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জনগণকে প্রতিরোধ করতে চাইলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে উপস্থিত জনগণ। একপর্যায়ে দ্রুত ড্রেজার মেশিন রেখে একটি বাল্কহেড নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অবৈধ ড্রেজারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রীনদী ফাঁড়ির কয়েকশো মিটার পাশেই কুমার নদে বালু উত্তোলন করা হয়। কিন্তু এর প্রতিকারের জন্য জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক লোক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বালুদস্যুরা। যেমনটা শুক্রবার রাতে ড্রেজার আটক ও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বালুদস্যু ওবায়দুল ফরাজি। যে কারণে এলাকার জনসাধারণের মনে শঙ্কা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তারা আরও বলেন, আমাদের শ্রীনদী রায়েরকান্দী কুমার নদের ভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এদিকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সরকারি নদের বালু কেটে বিক্রি করে প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন স্থানীয় কথিত কয়েকজন বিএনপি নেতা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনোভাবেই প্রতিকার পাচ্ছি না আমরা। এখন নিজেদের সম্পদ নিজেদের রক্ষা করতে মাঠে নেমেছি আমরা।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হাসান বলেন, ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।
/অ