দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম এলাকা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মিছিলটি শহরের কে কে রায় সড়ক, রাজবাড়ি, শিল্পকলা একাডেমি, কালিন্দীপুর, বিজন সরণি ও নিউমার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জিমনেসিয়াম এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, ‘পাহাড়ের নারীরা ঘরেও নিরাপদ নয়। এই ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সহসভাপতি কবিতা চাকমা এই কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মিলন চাকমার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির শাখা সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, পরিষদের শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীতি বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল শাখার সভাপতি ক্যাসাইনু মারমা ও পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা প্রমুখ।
অন্তর চাকমা বলেন, আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীদের কোথাও নিরাপত্তা নেই। খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ধর্ষণের শিকার আদিবাসী মেয়েটি নিজের বাড়িতে ৬ জন সেটেলার বাঙালি কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ভুক্তভোগী মেয়েটি মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে এনং বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বিষয়টি জনসম্মুখে চলে আসে।
তারা আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামিকে যখন পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তাদের মুচকি হাসি অপরাধীরা দায়মুক্তি পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অপরাধীদের মুখে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ পরিলক্ষিত হয়নি। এতে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির বিধান করা হবে কিনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষ সন্দিহান। পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সারা বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এটা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা।
সুমিত্র চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ঘটছে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, খুন, গুমসহ নানা রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক দমন-পীড়নের অংশ।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে, যদি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় চলমান নিপীড়ন থামানো না হয়, তাহলে জুম্ম ছাত্র-যুব সমাজ আর চুপ থাকবে না।আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো— গ্রামে গ্রামে, শহরে বন্দরে, বনে-জঙ্গলে। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হবে সর্বত্র চলবে।
গত বুধবার রাতে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে অভিযোগে খাগড়াছড়িতে মামলা হয়। এই ঘনটায় ওই দিনই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরমান হোসেন (৩২), সদস্য ইমন হোসেন (২৫) ও এনায়েত হোসেন (৩৫) এবং শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩২)। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির ইসলাম (২৯) ও ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল ইসলাম (২৩)। তাঁরা পলাতক আছেন।
এফএইচ/