দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সমবায় সংস্থার আড়ালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার শত শত সহজ-সরল গ্রামীণ নারী-পুরুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার এ অভিযোগ ‘গ্রামের আলো’ ও ‘গ্রামীণ উন্নয়ন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতি’ নামের দুটি সংগঠনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, চক্রের নেতৃত্বে থাকা জগন্নাথ চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীরা ২০০৬ ও ২০১১ সালে জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। নানা প্রলোভন ও মুনাফার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৪০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে তারা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে আমানত ফেরত না দিয়ে শুরু করে টালবাহানা, এমনকি গ্রাহকদের দেওয়া হয় হুমকি-ধামকিও। এছাড়া জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে কেউ কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, অনেকে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। আইনি প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের দারস্থ হয়েও ফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি সংস্থার চেয়ারম্যান জগন্নাথ চন্দ্র দাসকে জনতা আটক করে বেঁধে রাখে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। তবে তার সহযোগীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। প্রায় আট ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, শুধু শিবালয় নয়, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় সমবায় সমিতির নামে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে প্রায় নিয়মিত। হাজারো গ্রামীণ নারী-পুরুষ নিঃস্ব হয়ে পড়লেও প্রশাসনের চোখে পড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তার মদদেই এসব প্রতারক চক্র বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, সঠিক আইন প্রয়োগ ও কঠোর নজরদারি থাকলে এত বড় প্রতারণা ঘটত না। মানুষেরও সচেতনতার অভাব আছে । এই সুযোগটাই নিচ্ছে চক্রগুলো।

ঘটনার পর জেলা সমবায় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা ফেরদৌসী।
তিনি জানান, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সমবায় সংস্থার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
ভুক্তভোগীরা এখন একটাই দাবি করছেন, তাদের জমানো কষ্টার্জিত টাকা যেন ফেরত পাওয়া যায় এবং এ ধরনের প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়।
কে