দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম বলেছেন, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের পতাকাবাহী তারেক রহমান তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থেকেও বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন শক্ত হাতে চালিয়ে গেছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দীর্ঘ আন্দোলন এবং দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার অবিচল আস্থা তাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তাই তারই নেতৃত্বে মূলত গড়ে ওঠে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে ওঠে এবং হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরে পাবার লক্ষ্যে এক ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম তৈরি করে।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে তার উদ্যোগে সিলেটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান: আগামীর বাংলাদেশ ও তারেক রহমান” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার সালাম বলেন, তারেক রহমানের অগ্নিঝরা বক্তব্যে উঠে আসে বেশ কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান। যেমন, “টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ”। “বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফায়ছালা হবে রাজপথে। অবশেষে সেটাই হয়েছে। পরিশেষে, “দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ”-এই স্লোগানেই শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের দাবানল শহর থেকে গ্রামে-গঞ্জে, স্কুল থেকে কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের পঠভূমি চুড়ান্ত রুপ নেয়। অতঃপর ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলমতকে ঐক্যবদ্ধ করে যুগপৎ আন্দোলনের ডাক দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মূলতঃ এভাবেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনের ভীত রচিত হয় এবং ২০২৪ -এর জুলাইয়ে অতীতের সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বেই তারেক রহমানকে মহানায়কে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমান এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পরই জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ ও খুনী হাসিনার কবল থেকে দেশ ও দেশের আপামর জনগণকে মুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে। তাই আজকে এটি সময়ের দাবি গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার যারা হয়েছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। কবি ও আইণজীবি এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপির সঞ্চালনায় অনুষ্টানের শুরুতে ব্যারিস্টার এম এ সালামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন দেশ টিভির সিলেট প্রতিনিধি খালেদ আহমদ।
মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী ও কিংবদন্তি বিএনপি নেতা এম ইলিয়াছ আলীর সহধর্মিনী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সচিব প্রফেসর মামুন আকবর চৌধুরী, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ সিলেটের আহ্বায়ক ডাক্তার শামীমুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মোজাম্মেল হক, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর, সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম রব্বানী, জেলা বিএনপরি সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল লতিফ খান, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ফয়েজ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তছলিম আহমদ নিহার, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ মঈন উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ বদরুজ্জামান খিজির, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান, উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু ও জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সুরমান আলী। এছাড়া মতবিনিময় সভায় আইনজীবিগণ, চিকিৎসকগণ, শিক্ষকবৃন্দসহ সিলেট জেলা, মহানগর ও তিন উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্টানে পুলিশের গুলিতে নিহত মেধাবী সাংবাদিক তুরাবের পরবিার ও সিলেট-৩ আসনের অন্তর্গত সকল জুলাই যুদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কে