দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই কোনো আবেগের বিষয় নয় এটি বাংলাদেশের ছাত্র জনতার রাজনৈতিক গন্তব্য ও ইশতেহার। অথচ জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই নতুন সংবিধানে যুক্ত হবে এবং জুলাইয়ের পথেই পরিচালিত হবে আগামীর বাংলাদেশ।
দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের সাতমাথায় অনুষ্ঠিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম উপরোক্ত কথাগুলি বলেন।
নাহিদ বলেন, যারা জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে টালবাহানা করছেন তারা মুজিববাদের পাহারাদার। মুজিববাদীরা যেভাবে ভারতে পালিয়ে গেছেন পাহারাদারদেরও সেই একই পথে উৎখাত করা হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ছাত্র-জনতার এই নতুন বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের কারো কথায় নয় বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনীতি ঠিক করবে এই দেশের জনগণ। বিগত সরকারের সময় দীর্ঘ ১৬ বছর উন্নয়নের নামে আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। নাহিদ বলেন, বগুড়া জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার। একটা সময় বগুড়ার নাম শুনলেই উন্নয়ন তো দূরে থাক চাকরি অবধি হতোনা। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন চাই।
এসময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের মাঝে পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, বগুড়া জেলার যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহিত তাকি প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে বিগত ১৬ বছর উন্নয়নের নামে হওয়া আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তা চিরতরে অবসানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ, সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সংস্কার শেষেই এই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।
এর আগে 'দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির পঞ্চম দিনে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা শহরের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু করেন যা শেষ হয় সাতমাথায়।
পদযাত্রার পূর্বে একই দিন সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা শহরের বনানী পর্যটন মোটেলের অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় করেন আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে। নাহিদ ইসলামের কাছে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এখানেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী সকলের বিচার এই বাংলার মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
সাতমাথার পথসভা শেষে নেতৃবৃন্দরা বগুড়া শিবগঞ্জের মোকামতলা ও কিচক বাজারে পথসভা করেন। একই দিন নেতৃবৃন্দদের জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচি করার কথা রয়েছে জয়পুরহাট ও নওগাঁতেও।
এফএইচ/