দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি ‘ব্যক্তিগত আয়নাঘরে’ নারী-পুরুষকে বন্দি করে রাখার ঘটনায় আলোচিত সেই বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীরোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত (১) এর বিচারক আলমগীর হোসেন ১৬৪ ধারায় গ্রেপ্তার সুমন শেখের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক নাজমুল হক দেশ টিভিকে নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত সুমন সেখ (২৩) রায়গঞ্জ উপজেলার সোনারাম মধ্যপাড়ার জহুরুল ইসলামের ছেলে। এ নিয়ে এই মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক মঙ্গলবার রাতে দেশ টিভিকে বলেন, সোমবার রাতে সদর উপজেলার বহুলী বাজার এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সাড়ে তিন ঘণ্টা জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পর সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
নাজমুল হক আরও বলেন, সুমন সেখ জানিয়েছেন পল্লী চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত তাদের বাসা ভাড়া নিয়ে নিচের ফ্লোরে দুইটি গোপন কক্ষ তৈরি করেন। যেখানে দুইজন নারী ও পুরুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। সুমন নিজে তাদের খাবার সরবরাহ করতেন। আরাফাতসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজন সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সুমন সেখ এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলারই আসামি।
এর আগে ঘটনার দিন প্রধান আসামি পল্লী চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে।
প্রসঙ্গত, ১ মে গভীর রাতে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম গ্রামে জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন সেখের পাকা ভবনের ‘আয়নাঘর’ (গোপন কক্ষ) থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বেরিয়ে আসেন দুই নারী-পুরুষ। তাদের অভিযোগ, তাদেরকে ছয় মাস আগে তুলে নিয়ে সেখানে বন্দি করে রাখা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে লোকজন আয়নাঘর দেখতে ভিড় জমায়।
মুক্ত হওয়া ওই দুজন হচ্ছেন- উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের প্রয়াত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল জুব্বার (৭৫) এবং লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৮)।
তারা অভিযোগ করে বলেন, মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের তুলে নিয়ে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি করে রাখে। এ ঘটনায় ৩ মে আব্দুল জুব্বারের ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং শিল্পী বেগমের স্বামী মনসুর আলী খন্দকার দুটি মামলা করেছেন।
শফিকুল ইসলামের মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে মনসুর আলীর মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরএ