দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২৭ বছর আগে ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে লোক দিয়ে কৌশলে ডেকে এনে ডাকাতি নাটক সাজিয়ে যুবক ছানা মাঝিকে (৪৪) পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবু মাঝিরা।
বৃহস্পতিবার (১ মে) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্য মাকহাটি গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, ‘বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেল ৩টার দিকে স্বাধীন মানের এক ছেলেকে দিয়ে আমার স্বামীকে ডেকে নেন বাবু মাঝি। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি তিনি। ওইদিন রাত ১১টার দিকে আমার স্বামীকে হত্যা করে বাবু মাঝি তার ওপর পিস্তল রেখে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে লিখেন শিপন মাঝির হত্যার বদলা এক একে নিবো।’
এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পরবর্তীতে বাবু মাঝি তার ফেসবুক আইডিটি লক করে দেয়। ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন স্বজনরা।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাঁচ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাসের অনুসারি ছানা মাঝি এবং তার আরও সাত ভাই নিজ গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। ছানা মাঝি ৯ মাস ধরে সদরের বজ্রযোগিনীর ইউনিয়নের ড্যাগ্রাপাড়া গ্রামে পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তার পূর্ব পরিচিত স্বাধীন নামের এক ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই নিখোঁজ হয় ছানা মাঝি।
ওসি বলেন, ছানা মাঝিকে একটি পাটক্ষেতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মধ্যে মাকহাটির তালগাছ তলা সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে ছানা মাঝিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছানার রক্তাক্ত দেহের সঙ্গে একটি একনালা শর্টগান ও দুই রাউন্ড কার্টুজ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে একই এলাকার বাবু মাঝির ভাই সিপন মাঝিকে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ছানা মাঝি ও তার ভাইয়েরা। দীর্ঘদিন জেল হাজতে থেকে মামলা থেকে খালাস পান ছানা মাঝিরা। এরপরই বাবু মাঝি ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে ছানা মাঝিকে কৌশলে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করে। এরমধ্যে সমাজের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় বাবু মাঝিদের বাড়িতে ডাকাত এসছে। ডাকাতি করার সময় স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে বলে নাটক সাজানো হয়।
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অপরাধিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছেন তারা। এই হত্যাকাণ্ডে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। ছানা মাঝির স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন।
আরএ