দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কষ্টার্জিত শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতা। মানবিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে গঠিত ‘গ্রাম মানবিক উন্নয়ন ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি’ এখন হাজারো মানুষের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
ভবিষ্যতের নিরাপত্তার আশায় যে জামানত রাখা হয়েছিল, তা এখন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বহু পরিবারকে। এমনই এক করুণ চিত্র উঠে এসেছে জামশা ইউনিয়নের উত্তর জামশা এলাকায়।
রোববার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে ওই এলাকায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভ চলাকালে সমবায়ের অন্যতম পরিচালক ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেনের বাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করে।
কিডনি রোগে আক্রান্ত গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারের চোখে জল নিয়ে বলেন, স্বামীর গরু-বাছুর, ফসলি জমি সব বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা রেখেছিলাম সমিতিতে। তিন বছরেও এক টাকাও পাইনি। চিকিৎসা করাতে না পেরে মৃত্যুর দোয়ারে এখন আমি।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের চার নেতা— গাজী কামরুজ্জামান, আমজাদ হোসেন, মানিক মিয়া উজ্জ্বল ও হাবিবুল্লাহ মিলে এই সমবায় সমিতিটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে লভ্যাংশ দিলেও ধীরে ধীরে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। এখন হাজারো গ্রাহকের শত কোটি টাকা আটকে আছে। অনেকেই নিঃস্ব, কেউ আত্মহত্যারও পথ বেছে নিচ্ছেন।
চারিগ্রামের সাবিনা বেগম জানান, প্রথমবার কিছু লভ্যাংশ পেলেও দ্বিতীয়বার টাকা রাখার পর শুধু তালবাহানা আর মিথ্যে আশ্বাস দেয় তারা। প্রায় আট বছর ধরে টাকা দিবে বলে বলতেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। গ্রাহকদের দাবি, এই টাকা অবৈধভাবে দুবাই ও অন্যান্য দেশে পাচার করেছে প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, তারা টাকা নিয়ে বিদেশে গাড়ি-বাড়ি ও ব্যবসা করছে। আর আমরা অনেকেই নিঃস্ব হয়ে ভাত জোটাতে পারি না।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা ফেরদৌসী বলেন, এমন সমবায় প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে জামানত নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান গাজী কামরুজ্জামান গা ঢাকা দিয়েছেন। তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার আট-নয় কোটি টাকার কথা স্বীকার করেছেন। পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আরএ