দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল রক্ত পুশ করার অভিযোগে এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম মো. বিল্লাল (৫২), তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার খাগড়াকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে গত বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মো. বিল্লাল মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তার শরীরে ‘ও’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ভুলবশত ‘বি’ পজিটিভ রক্ত পুশ করা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সংগ্রহের পর তা নার্সদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নার্সরা ডাক্তারি অর্ডার চেয়ে নেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পুশ করেন। রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর শরীর ঠান্ডা হয়ে যেতে থাকে, কিন্তু তখনও কেউ বুঝতে পারেনি যে রক্ত ভুল দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে বাইরে থেকে একজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের সতর্ক করলে তারা নার্স ও চিকিৎসকদের ডাকাডাকি শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রক্তের ব্যাগ ও কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে এবং রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা করে।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে এক চিকিৎসক এসে রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্বজনরা রোগীর গুরুতর অবস্থা ও আর্থিক অনটনের কথা জানিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর আর কোনো চিকিৎসা করেননি বলেও অভিযোগ তাদের।
ঘটনার বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াক আহমেদ জানান, বিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐশি ও মেডিকেল অফিসার ডা. নূরজাহানের ডিউটির সময় ‘বি’ পজিটিভ রক্ত পুশ করা হয়। এরপরই রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। আমি রাত ৮টায় ডিউটিতে এসে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি, কিন্তু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রক্ত দেওয়ার আগে কাগজপত্র না দেখা মারাত্মক ভুল। রোগীর মৃত্যু সনদে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছে, ভুল রক্ত দেওয়ার বিষয়টি সেখানে লেখা হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এমনটি করা হয়েছে।
ঘটনার সময়ে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. নূরজাহান ও ইন্টার্ন ঐশির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গেও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমান উল্লাহ জানান, এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
রোগীর স্বজনদের দাবি, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং হাসপাতালের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফসল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এফএইচ/