দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা। এই উপজেলার ১৩ ইউনিয়নই শিকার হয়েছে পদ্মার ভাঙনে। পদ্মা নদীর ভাঙনের পর জেগে ওঠা চরাঞ্চলে বসবাস হাজারো মানুষের। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনি সুযোগ সুবিধা না থাকলেও যেখানে একদিন ছিল শান্তিপূর্ণ গ্রামীণ জীবনযাপন সেখানে আজ প্রতিটি দিন যেন আতঙ্কে ভরা রাতের প্রতীক্ষা।
চরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই চরাঞ্চলের আজিমনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হান্নান মৃধার নেতৃত্বে একটি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের জমি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও হামলার মতো নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। হান্নান মৃধা আওয়ামী সরকারের আমলে সাবেক এমপি মমতাজের সাথেও ছিলো তার সক্ষতা। তখনও যেমন নীরিহ মানুষের সাথে অত্যাচার করা হতো। সরকার পতনের পরও তাই করছে। বরং এখন মাত্রাটা আরো বেড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে চরবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময়ের হাসিখুশি মানুষগুলো আজ নিঃস্ব, শঙ্কিত। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক আর অসহায়ত্বের ছাপ। গত কয়েক মাসে অন্তত ২৫ জন হামলার শিকার হয়েছেন, অনেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন নিরাপত্তার অভাবে। অভিযোগ করতে চাইলেও পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন। তারা চায় শুধু শান্তিতে বাঁচতে। চায় নিজের ঘরে ফিরতে, জমিতে চাষ করতে, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে। কিন্তু দখলদারদের ভয়ে সেই জীবন এখন স্বপ্নের মতোই দুরাশা হয়ে আছে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত হান্নান মৃধা বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সব সত্য নয়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মাহবুব ইমতিয়াজ বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। তবে আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী যেই হোক, তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এফএইচ/