দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরগুনার ডালভাঙা গ্রামের তারাবানু আজও অপেক্ষায় আছেন ছেলের জন্য। ঈদের নতুন পোশাক, আনন্দ, কোলাহল—এসব তার জীবনে অর্থহীন। বছর তিনেক আগে মাছ ধরতে গিয়ে সাগরে নিখোঁজ হন তার একমাত্র ছেলে ইউনুস। এখনো মনে করেন, ছেলে ফিরে আসবে। কিন্তু ঈদের খুশি তার ঘরে আর কখনো ফিরবে কি না, তা জানেন না তিনি।
তারাবানুর মতো উপকূলের শত শত পরিবার ঈদের দিনও চেয়ে থাকে সাগরের দিকে। বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা, কান্না আর হতাশায় কাটে তাদের দিন। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে নেই নতুন পোশাক কেনার আনন্দ, নেই ভালো খাবারের আয়োজন। কষ্টের জীবনযাত্রায় কোনোদিনও মিলছে না সরকারের পূর্ণ সহায়তা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে মৎস্য শিকারের মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিটি মৌসুমেই কোনো না কোনো পরিবার হারায় তাদের উপার্জনক্ষম স্বজনকে। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রতিবছর নিখোঁজ হন বহু জেলে।
বরগুনার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছর ট্রলার দুর্ঘটনায় অনেক জেলে সাগরে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের পরিবার সরকারি সহায়তা পেতো। কিন্তু সেটাও হয় না।’
মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বরগুনা উপকূলে নিখোঁজ হয়েছেন দুই শতাধিক জেলে। তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। অথচ বাংলাদেশের আমিষ চাহিদা পূরণে এবং রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এই জেলেরা।
কে