দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত জেলেদের প্রাপ্য চাল কম দেওয়া এবং অজেলে ব্যক্তিদের জেলে পরিচয়ে চাল বিতরণের অভিযোগে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমুদ্রে ৫৮ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রত্যেক সমুদ্রগামী জেলে পরিবারকে ৭৭ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল দেওয়ার কথা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে ২২ জন, গালুয়া ইউনিয়নে ১২০ জন এবং বড়ইয়া ইউনিয়নে ৯৮ জনসহ মোট ২৪০ জন জেলের নামে ১৮ দশমিক ৫৫৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদেই চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। জেলেদের দেওয়া স্লিপে ৭৭ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে ৭৫ কেজি করে। এতে প্রতিজনের প্রায় ২ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী জেলে মো. মিরাজ, মো. সোহেল আকন, আনোয়ার তালুকদার ও নাসির উদ্দীন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, সরকার নির্ধারিত পরিমাণ চাল তারা পাননি। প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে জেলে কামাল, দুলাল ও এনায়েতের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের অনেকে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেও দোকানদার, ব্যবসায়ী, বালুবাহী জাহাজের শ্রমিক ও অন্য পেশার লোকজন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চাল পেয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে প্রকৃত জেলে নন এমন ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলেদের সরকারি কার্ডে ট্রলিং নম্বর থাকার কথা। কিন্তু গালুয়া ইউনিয়নের ১২০ জনের তালিকায় মাত্র ৮১ জনের নামে ট্রলিং নম্বর পাওয়া গেছে। বাকি ৩৯ জনের নামের পাশে কোনো ট্রলিং নম্বর নেই।
তবে চাল কম দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সবাইকে ৭৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বাকি চাল একত্র করে তালিকার বাইরে আরও দুজন জেলেকে দেওয়া হয়েছে। তবে অজেলে ব্যক্তিদের চাল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম মণ্ডল বলেন, সরকারি তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। কেউ প্রকৃত জেলে না হয়েও চাল নিয়ে থাকলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই চাল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়। জেলেদের চাল কম দেওয়া হয়েছে বা অজেলে ব্যক্তিরা চাল পেয়েছেন এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হবেন।
জে আই