দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জনতা ব্যাংকের (এমডি) মজিবুর রহমানের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার মামলায় পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশিদ ফাত্তাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফাত্তাহ পতিত সরকারের আমলে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বর্তমানে জনতা ব্যাংকের (এমডি) মজিবুর রহমানের আপন শ্যালক।
গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ ফাত্তাহ (৪১) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি ঢাকার শান্তিবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
সোমবার (৩ মার্চ) সকালে ঢাকার শান্তিবাগের বাসা থেকে পলাতক ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে গফরগাঁও থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করে ফাত্তাহ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চাকরির নামে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিতেন। পরিবর্তন করতেন নিজের মোবাইল নম্বর-বাসস্থান। চাকরি প্রত্যাশীরা প্রতারক ফাত্তাহ'র বোন জামাইকে দেখে টাকা লেনদেন করতেন। চাকরির জন্য চুক্তিপত্র করার সময় ফাত্তাহ'র তার বোন জামাই টাকা নেবেন বলে লেনদেন করতেন। আবার টাকা নিয়ে অনেক সময় চাকরি প্রত্যাশিদের চেক দিতেন ফাত্তাহ। চেকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রতারক মামুনুর রশীদ ফাত্তাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার করার পর অনেক ভোক্তভোগী তার এমন অপকর্মের সাক্ষী দেন।
২০১৯ সালে গফরগাঁও উপজেলার জন্মেজয় গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে নাহিদ আলমকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে চেকের বিনিময়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেন মামুনুর রশিদ ফাত্তাহ। চাকরি দিতে না পেরে গা-ঢাকা দেন। পরে ২০১৯ সালে নাহিদ আলম ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি আদালত মামুনুর রশিদ ফাত্তাহকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেন। এরপর থেকে ফাত্তাহ পলাতক ছিল। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে মামলার বাদি নাহিদ আলম বলেন, আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার পেয়েছি। পুলিশ প্রতারককে গ্রেপ্তার করলেও ফাত্তাহকে অনৈতিক ভাবে সাহায্যকারিরা বাহিরে রয়ে গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অপর ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ ফাত্তাহর আপন চাচাতো ভাই শেখ আলীম রেজা আপেল বলেন, আমার কাছ থেকে ইউসিবি ব্যাংকে চাকরি দেবে বলে তার দুলাভাই (বর্তমান) জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমানের নাম বলে ৭ লাখ টাকা নেয় ফাত্তাহ। ২০১৯ সালে আমাকে ইউসিবি ব্যাংকের এমডি স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র দেন। চাকরিতে যোগদান করতে গিয়ে দেখি নিয়োগপত্রটি ভুয়া। এরপর টাকা ফেরত দেয়ার নামে শুরু হয় নানা নাটকিয়তা। টাকা চাইতে গেলে মিথ্যা মামলা ও হুমকি দিত ফাত্তাহর বড় বোন হ্যাপিসহ পরিবারের লোকজন। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে গেলেও ফাত্তাহ ও তার পরিবার ক্ষমতা খাটিয়ে পুলিশকে প্রভাবিত করেন। আমি তার শাস্তি ও টাকা ফেরত চাই।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিব্বিরুল ইসলাম বলেন, আসামি অর্থ ঋণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন। তাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামুনুর রশিদ ফাত্তাহ'র স্ত্রী লাবনী আক্তার রুপালী ব্যাংক রাজারবাগ শাখার রেমিট্যান্স অফিসার। ফাত্তাহ'র বিষয়ে জানতে লাবনীর নাম্বারে কল দিলে রিসিভ করেন। কিন্তু, সংবাদকর্মী পরিচয় দিতেই তিনি লাইন কেটে দেন।
জনতা ব্যাংকের (এমডি) মজিবুর রহমানের নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, এসএমএসে করে কল দেয়ার কারণ জানতে চান। পরে তার নাম ভাঙিয়ে শ্যালকের অপকর্মের বিষয় জানতে চেয়ে এসএমএস করলেও তিনি কোন রিপ্লাই দেননি।
এফএইচ/