দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মারধরে আহত ওই সাংবাদিককে মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের নাম দোস্ত মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী এবং দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন চবি ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী খালেদ মাসুদ এবং শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফাত রায়হান। তারা উভয়ই ক্যাম্পাসের বগিভিত্তিক গ্রুপ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক স্টেশনের চা দোকানে আসেন। তখন অভিযুক্ত খালেদসহ বেশ কয়েকজন সেখানে বসা ছিলেন। একটি চেয়ার ফাঁকা থাকায় দোস্ত মোহাম্মদ চেয়ারটি নিয়ে আসেন। খালেদ এসে জিজ্ঞাসা করেন কার অনুমতি নিয়ে তিনি চেয়ার এনেছেন? এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খালেদ দোস্ত মাহমুদের দিকে গরম চায়ের কাপ ছুড়ে মারেন। এ সময় খালেদের সঙ্গে থাকা অন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মাটিতে পড়ে গেলে পেটে উপর্যুপরি লাথি মারেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দোস্ত মোহাম্মদ বলেন, সন্ধ্যায় স্টেশনে চা পান করতে গিয়েছিলাম। ছাত্রলীগের খালেদসহ বেশ কয়েকজন বসে ছিলেন সেখানে। একটি চেয়ার খালি থাকায় আমি সেটা নিয়ে আসার সময় খালেদ আমাকে বলে, ‘তুমি এটা কার অনুমতি নিয়ে নিচ্ছ?’ আমি খালেদকে আগে থেকে চিনতাম ও আমাদের জুনিয়র। তাই বললাম ‘তুমি করে বলছো কেন? আমাকে চেন?’ এরপর সে আমার সেশন জিজ্ঞেস করে। সেশন বলার সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে থাকা গরম চাসহ চায়ের কাপ আমার মাথায় মেরে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে সে বলে, ‘তুই সাংবাদিক হইছোস তো কী হইছে?’ এ কথা বলেই তার সঙ্গে থাকা ১০-১২ জন আমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা চায়ের কাপ দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং পেটে লাথি মারতে শুরু করে। এদের মধ্যে আরাফাত রায়হান বেশি মারধর করেছে। আমার কিডনিতে আগে থেকেই সমস্যা আছে। পেটে আঘাত পাওয়ায় পেট ফুলে যাচ্ছে, খুব অসুস্থবোধ করছি।
সিএফসি গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদাফ খান বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। ছাত্রলীগ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। এ ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নুরুল আজিম সিকদার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলার এখতিয়ার কারও নেই। ঘটনা শুনেই আমি আহত সাংবাদিককে দেখতে এসেছি। লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’