দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদারীপুরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকার ইয়াকুব শেখের বাড়ি থেকে মূর্তিটি ভাঙ্গা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এদিকে মূর্তি বিক্রির জন্য দরদামও ঠিক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। উদ্ধার করা মূর্তিটির ওজন ১৮ কেজি ৮৮৮ গ্রাম।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য দুইদিন ধরে জমি থেকে ভ্যেকু দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করছিলেন ইয়াকুব শেখ। সেখানে গভীরে খননের সময় মাটি মাখা পাথরের মতো জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। পরে উত্তোলন করে পানিতে ধুয়ে দেখা যায় পাথরের মূর্তি। এভাবে করে ৩ খণ্ড মূর্তি পাওয়া যায়। এসময় মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি বুঝতে পেরে ইয়াকুব ও তার ছেলে আসলাম দ্রুত ঘরের ভেতরে লুকিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বিক্রির জন্য কুতুব উদ্দিন শেখ ও কবীর শেখ নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন ইয়াকুব ও তার ছেলে। রাতের আধারে সরিয়ে ফেলার চুক্তিও করেন তারা। পরবর্তীতে টের পেয়ে মূর্তিটি দেখতে চায় স্থানীয় এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। এসময় তাকে দেখতে না দেওয়ায় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেন ওই ব্যক্তি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ছুটে আসেন মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ। পরে মূর্তিটি ৩ খণ্ড ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে পুলিশ আসার খবরে পালিয়ে যান মূর্তি ক্রয় করতে চাওয়া কুতুব উদ্দিন শেখ ও কবির শেখ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমি মূর্তি পাওয়া গেছে শুনে দেখতে যাই। এসময় আমার সঙ্গে বিভিন্ন বাহানা করে মূর্তি দেখতে দিতে রাজি হয় না। তারা বলতে থাকে সামান্য একটা পাথরের মূর্তি। পরে আমার সন্দেহ হলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করেছি।
এ ব্যাপারে মূর্তি পাওয়া ইয়াকুব শেখ বলেন, ভ্যেকু দিয়ে পুকুর খনন করছিলাম। একপর্যায়ে মাটির সঙ্গে পাথরের মতো কিছু উঠে আসে। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে দেখি মূর্তি। সেটা নিয়ে রান্নাঘরে ফেলে রাখি। অনেক মানুষ মূর্তিটা দেখেছে। ভিড়ের মধ্যে একজন দেখতে চাওয়ায় ১০ মিনিট পরে দেখানোর কথা বলি। এজন্য সেই লোক পুলিশে খবর দিয়েছে।
ইয়াকুব শেখের ছেলে আসলাম শেখ বলেন, প্রথমে লোহা মনে করে আমার হাতে দেয়। পরে আমি মুছে দেখি মূর্তির মতো দেখা যায়। আমরা মনে করছি এমনি কোনো পাথরের মূর্তি। তাই রান্নাঘরে ফেলে রাখি।
মাদারীপুর সদর থানার এসআই জানান, একটা মূর্তি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তবে মূর্তিটা মূল্যবান কষ্টিপাথরের নাকি সাধারণ পাথরের তা নিশ্চিত হতে পারিনি। মূর্তিটির ওজন ১৮ কেজি ৮৮৮ গ্রাম।
/অ