দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্ত্রী মদিনা আক্তার (২৮) কে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন তামিম। সম্প্রতি তিনি হঠাৎ করে স্ত্রীকে রেখে নাই হয়ে যান। পরদদিন মদিনা তার স্বামীর খোঁজে শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছেন। সেই থেকে স্বামীকে ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই অনশন করছেন মদিনা।
এদিকে পুত্রবধূ মদিনা আক্তার অনশন শুরু করায় বাড়িতে থাকেন না তার শ্বশুর ও শাশুড়িও। তারা মদিনাকে একা বাড়িতে রেখে অন্যত্র বসবাস করছেন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর বড়কান্দা গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনাটি। এ ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে নানা রকম আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্নকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষই লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪-৫ বছর আগে আদালতের মাধ্যমে দুর্গাপুর বড়কান্দা গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে তামিমের সাথে বিয়ে হয় একই এলাকার শ্যাওড়া গ্রামের মৃত আলতাব উদ্দিনের মেয়ে মদিনা আক্তারের। বিয়ের পর তামিমের পরিবার তা মেনে না নেওয়ায় তামিম শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন এবং মদিনা তার স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। মদিনার পরিবারে আর কোনো ওয়ারিশ না থাকায় তিনি তামিমকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে চলছিলেন। মদিনা তার নিজের উপার্জন ও সঞ্চিত অর্থ দিয়ে তামিমকে সহযোগিতা করতেন। তবে মদিনাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে হঠাৎ করে চট্টগ্রামে চলে গিয়ে তামিম আরও একটি বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
মদিনা আক্তার বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে তামিম ২০ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে রেখে তাদের বাড়িতে চলে যায়। পরদিন সকালে আমি শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি তামিম আমাকে তালাক দিয়েছে। পরে ২২ জানুয়ারি থেকে শ্বশুর বাড়িতে এসে স্বামীকে এনে দেওয়ার দাবিতে অনশন শুরু করি। গত ৮ দিন ধরে আমি শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছি। আমি আসার পর শ্বশুর-শাশুড়ি তারাও বাড়িতে থাকে না। কেউ আমার খোঁজ নেয় না এবং খেতেও দেয় না।
মদিনা আরও বলেন, স্বামী না আসা পর্যন্ত আমি শ্বশুর বাড়ি থেকে যাব। গেলে স্বামীকে সাথে আমি নিয়েই যাব। আর তা না হলে এখানেই মরব।
তামিমের বাবা মোতালেব মিয়া বলেন, আমি তামিম-মদিনার বিয়ে মেনে নিইনি। তাই তামিম বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। এখন তারা যা করেছে তার জন্য আমার বাড়িতে জায়গা নেই। তামিমের কোনো দায় দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না।
স্থানীয় নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি একদিন গিয়ে দেখে এসেছি। গত দুদিন আগে তার শ্বশুর-শাশুড়িও বাড়ি থেকে চলে গেছে। পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু দুপক্ষের মধ্যে মিল হচ্ছে না। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনানুগ পদক্ষেপ ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।
আরএ