দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে এজলাস সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে আদালতের কার্যক্রম। ২৩ বিচারকের বিপরীতে এজলাস রয়েছে মাত্র ১৫ টি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিজস্ব ভবন না থাকায় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ধার করাসহ ৬ টি আলাদা ভবনে ভাগাভাগি করে চলছে বিচারকাজ। এজলাস আর অফিসকক্ষ সঙ্কটে দিনদিন প্রকট হয়ে উঠছে মামলাজট। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বিচার প্রার্থী ও বিচার সংশ্লিষ্টরা। তবে বরাদ্দ পেলে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর কথা বলছে জেলার গণপূর্ত বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছে ৪ তলা বিশিষ্ট শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন। এই ভবনটিতেই চলছে জেলার বিচারিক কার্যক্রম। কিন্তু এই ভবনটিতে বিচারকদের এজলাস সংকুলান না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি ভবন ও নারী শিশু আদালতসহ অপর ৩টি টিনসেড ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, একই কক্ষের মধ্যে একদিকে চলছে বিচারিক কাজ, অন্যদিকে চলছে শেরেস্তা, কম্পিউটার অপারেটর, রেজিস্ট্রারসহ সকল কার্যক্রম। দেখা গেছে, একজন বিচারকের কাজ শেষ হলে একই স্থানে শুরু হচ্ছে অন্য বিচারকের কাজ। শরীয়তপুরে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮০ থেকে ১০০ টি মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে আদালতে।
শরীয়তপুর জেলা জজ আদালতের নাজির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, নারী ও শিশু আদালত বসছে ভাঙা টিনশেড ভবনে। এমনভাবে ৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টিনশেড ভবনের এজলাস শেয়ারিং করে কাজ করছেন। এতে নথিপত্র খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি বিচারের কাজে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। নতুন একটি ভবনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণ হলেও ভবন এখনো কেন হচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই।
তবে সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কাজ সঠিক ও সুন্দরভাবে করার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি হানিফ মিয়া বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে বিচার প্রার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত কক্ষ। আর বিচারকরা পান না চাহিদা মতো এজলাস। এভাবে কক্ষের স্বল্পতা ও জায়গা ছোট হওয়ার কারণে আমরা আইনজীবীসহ বিচার প্রার্থীরা স্বস্তি বোধ করছেন না।
অন্যদিকে দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জেলা আইনজীবী সমিতি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থান সঙ্কট থাকায় নতুন ভবনের প্রয়োজন। সিজিএম কোর্ট না থাকা জেলাগুলোর জন্য প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।
অনুমোদন পেলে ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছে তিনি।
অ