দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় লুমা রাখাইন নামের এক নারীর সাড়ে ৭ একর সম্পত্তির প্রায় ২৫০ মণ ধান লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মো. আলী আক্কাসের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় বিচার চেয়ে কুয়াকাটা প্রেস ক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী লুমা রাখাইন।
অভিযুক্ত মো. আলী আক্কাস মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লুমা রাখাইন বলেন, আমার বাবার কাছ থেকে পাওয়া এবং আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করা ৭.১৮ একর সম্পত্তি আমি আজীবন ভোগদখল করে আসছি। ২০২২ সালে যুবদল নেতার কুপরামর্শে আমার ভাইয়ের দ্বারা সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করে আমার নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ৫ আগস্টের পরে এই ভূমিদস্যুরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আচমকা ১৭ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার জমিতে আমার বর্গাচাষি ধান কাটা শুরু করলে ওই বিএনপির নেতা ৩০-৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল নিয়ে এসে লাঠিসোঁটা আর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ধাওয়া দিয়ে জমির সব ধান লুট করে নিয়ে যায়।
লিখিত বক্তব্যে লুমা রাখাইন আরও বলেন, বাবা জীবিত থাকাকালে পুরো সম্পত্তি স্থানীয় মংফরম তালুকদারের কাছে মৌখিকভাবে বিক্রি করেন। তবে কোনো প্রকার রেজিস্ট্রি দলিল হয়নি। তার আগেই আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। এমতাবস্থায় আমি বাবার নেওয়া পুরো টাকা মংফরম তালুকদারকে ফেরত দিয়ে পুরো সম্পত্তি ফেরত আনি। এই বিষয়টি কলাপাড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে এভিডেভিট করে নিয়ে আসি ২০০৪ সালে। পরে এই সম্পত্তির বিএস আমার নামে এবং খাজনা দিয়ে আসছি নিয়মিত। আমার আপন ভাই এমংচি ওরফে ইয়াইমংচিং প্রায় ৪৫ বছর বারমা ছিল। পরে ২০১০ সালে দেশে ফিরে আসলে তার ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দাবি করলে আমি তার পাওনা ২ দশমিক ৪০ একর সম্পত্তি ফেরত দেই। পরে আবার আমার ভাই তার সেই ২ দশমিক ৪০ একর সম্পত্তি আমার কাছে বিক্রি করে।
এতদিন আমি সেই পুরো সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। তবে বিএনপি নেতা আক্কাস আলীর ছেলে রাব্বি হাং, ফিরোজ হাং, জাফর হাং, মো. কাদের, মো. জলিল মোল্লাসহ অনেকে এই লুটে সহযোগিতা করেন। এর আগে পুরো বিষয়টা আমি কুয়াকাটা পৌর বিএনপি এবং লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে জানালে তারা কাগজপত্র দেখে আক্কাসকে জমির কাছে যেতে নিষেধ করেন। তবুও তিনি আমার ধান লুট করে নেয়।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আলী আক্কাস বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে বিএনপির লোকজন ষড়যন্ত্র করছে। আমরা কখনো এই সম্পত্তি ভোগদখল করিনি। আর ধান লুটের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিক মোল্লা বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। আমি এলাকায় ছিলাম না। তবে এ অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে সাংগঠনিকভাবে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব। সন্ত্রাস বা লুটকারীদের জায়গা দলে নেই।
অ