দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ জেলা দলিল লেখক কার্যালয় থেকে লকার ভেঙে গ্রাহকদের অর্ধশতাধিক জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৬ ডিসেস্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয় সংলগ্ন দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
কার্যালয়ের দয়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মী মোকসেদ আলী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভবনের ভেতরে আমি দরজা বন্ধ অবস্থায় ছিলাম। এ সময় বাইরে লোহার গেটে শব্দ শুনতে পেয়ে বের হলে চোররা আমাকে জাপটে ধরে। তারা মুখে মুখোশ পরা ছিল এবং হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। এ সময় আমার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও চার হাজার তিনশ’ টাকা নিয়ে যায়। পরে বারান্দায় থাকা দলিল লেখকদের আলমারি ভেঙে দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় আমাকে ভেতরের রুমে বন্দি করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি বশির আহমেদ বাবু বলেন, এই লকারে কোনো টাকা পয়সা বা স্বর্ণালঙ্কার ছিল না। গ্রাহকের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ছিল। যারা এই দলিলগুলো নিয়ে গেছে তাদের কোনো লাভ হবে না। কিন্তু গ্রাহকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এটা কোনো পরিকল্পিত চক্রান্ত কিনা তা প্রশাসনকে তদন্ত করে বের করার দাবি জানান।
সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে অর্ধশতাধিক দলিল চুরি গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রাহকরা দলিল নিতে আসলে আর আসল দলিল পাবে না। পুনরায় সার্টিফাইড কপি অফিস থেকে উত্তোলন করে দিতে হবে। মূল দলিল জমির মালিকের কাছে না থাকায় গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হবেন। অন্যথায় এই দলিলের দাতা এবং গ্রহীতা তাদের পুনরায় এসে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে জবানবন্দি দিয়ে নতুন দলিল তুলতে হবে। এতে করে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হবেন।
জেলা সাব রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ মছিউল ইসলাম বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুলিশ বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোনো কিছু হয়ে থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমান উল্লাহ বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা তদন্ত করছি। আমাদের আইনগত ব্যবস্থা চলমান আছে।
আরএ